আজ র্নিধারিত হবে ফরিদগঞ্জ পৌরসভার নৌকার মাঝি

তাপস চক্রবর্তী:

কে হচ্ছেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নৌকা মাঝি। এই নিয়ে চলছে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা। আজ বুধবার (১৩ জানুয়ারি) আওয়ামীলীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ৪র্থ দফা পৌর নির্বাচনের দলীয় মনোনয়ন নির্ধারণের জন্য স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভা হওয়ার কথা রয়েছে। সেই বৈঠকেই নির্ধারিত হবে চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ ও কচুয়া পৌরসভার আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী।
জেলার বিগত পৌরসভা নির্বাচনের দিকে তাকালে দেখা যাবে, চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনে টানা দুই বারের বিজয়ী মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদকে বাদ দিয়ে তরুণ প্রজন্মের জিল্লুর রহমান জুয়েলকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বোর্ড। তিনি বিজয়ী হয়ে তার প্রতিদান রাখেন।
আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ৩য় দফার পৌর নির্বাচনে হাজীগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই নির্বাচনের জন্য আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বোর্ড বর্তমান মেয়র মাহবুবুল আলম লিপনের উপর আস্থা রাখেন। ফলে দুটি পৌরসভা নির্বাচনে দুইরকম মনোনয়ন দেয়ায় আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ৪র্থ দফার পৌর নির্বাচনে জেলার ফরিদগঞ্জ ও কচুয়া পৌরসভায় কে মনোনয়ন পাবেন তা নিয়ে সকলের কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে। সকল প্রার্থীই শেষ মূহূর্তের তদবির নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন। প্রতি ঘন্টায় ঘন্টায় আসছে নতুন খবর। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সয়লাভ নেতাকর্মীদের চটকদার মন্তব্য ও লেখায়। কিন্তু কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না, আমিই পাবো। কারণ একটাই, মনোনয়ন বোর্ডের প্রধান দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিগত দিনে দেখা গেছে সর্বস্থান থেকে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত থাকলেও দলীয় মনোনয়ন তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেছে গনেশ উল্টে গেছে। এবারাও কি সে এই পরিনতির দিকে দুই পৌরবাসীর যাচ্ছে কিনা , তা দেখার বিষয়।
বিশাল জনসংখ্যা অধ্যূষিত ফরিদগঞ্জ উপজেলার কেন্দ্রস্থল ১৯.৭৫ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে ২০০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর ফরিদগঞ্জ পৌরসভা যাত্রা শুরু করে। ৯টি ওয়ার্ডের সমন্বয়ে গঠিত পৌরসভার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ভোটার সংখ্যা ৩১হাজার ৮৪ জন । প্রতিষ্ঠাকালে এটি খ শ্রেণির হলেও ২০১৬ সালে ২০ জুন এটিকে খ শ্রেণিকে উন্নিত করা হয়। সাবেক ১৩নং ফরিদগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের পুরো অংশ, ৯নং গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের সাবেক ৯নং ওয়ার্ড এবং ৮নং পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের একটি গ্রামের কিছু অংশ নিয়ে পৌরসভাটি গঠিত হয়।
আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারী ভালবাসা দিবসের দিনে ফরিদগঞ্জ পৌরবাসী তাদের নতুন পৌর মেয়র নির্বাচনের জন্য ভোট প্রদান করবেন। ব্যালট ভোটে নির্বাচনের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে রাজনীতির মাঠের বড় দুই দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপির মেয়র পদের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ব্যস্ত দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য।
পৌর আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভায় এবং চাঁদপুর জেলা আওয়ামীলীগের কাছে কমপক্ষে ২০জনের আবেদন জমা পড়ে। জেলা আওয়ামীলীগও ঝামেলা এড়াতে আবেদিত সকল প্রার্থীর তালিকা পাঠিয়ে দেয় কেন্দ্রে সেই অনুযায়ী এই পর্যন্ত ফরিদগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে মেয়র পদে নৌকার মাঝি হতে দলীয় মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন ২০জন প্রার্থী। অর্থাৎ এক নৌকার মাঝি হতে লড়ছেন ২০ প্রার্থী।
এরা হলেন, পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান মেয়র মাহফুজুল হক, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারী, সহসভাপতি লোকমান তালুকদার, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা পরিষদ ভাইসচেয়ারম্যান ওয়াহিদুর রহমান রানা, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম পাটওয়ারী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও পৌর আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন মিয়াজী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন মিয়াজী, জেলা পরিষদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান মিটু, জেলা পরিষদ সদস্য ও পৌর আওয়ামীলীগের একাংশের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম রিপন, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি(ভারপ্রাপ্ত) ও কাউন্সিলর মজিবুর রহমান পাটওয়ারী, পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর মো: খলিলুর রহমান, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও যুবলীগের সাবেক সদস্য ইসমাইল হোসেন পাটওয়ারী, পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হাজী কামরুল হাসান সাউদ, পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক আকবর হোসেন মনির, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান শাহীন, সিনিয়র যুগ্মআহ্বায়ক হেলাল উদ্দিন আহমেদ, পৌর যুবলীগের সভাপতি আব্দুল গাফ্ফার সজিব। এছাড়া নারী প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী সেলিনা আক্তার শেলী, উপজেলা মহিলালীগের সভাপতি অ্যাড. নাজমুন নাহার অনি, পৌর মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আজমুর বেগম।
২০০৫ সালে গঠিত হওয়ার পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত মেয়র মো: মঞ্জিল হোসেন। এরপরে ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী হন বর্তমান মেয়র মাহফুজুল হক। সেই নির্বাচনে পরাজিত হন ওই সময়ের মেয়র মঞ্জিল হোসেন। ওই সময়ে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন দুই জন। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীণ আওয়ামীলীগের মেয়র পদে ২০ প্রার্থীর মধ্যে কে নৌকার মাঝি হচ্ছেন, তা নিয়ে চলছে সর্বত্র চুলচেরা বিচার বিশ্লেষণ। সর্বশেষ তথ্য মতে ২০ জনের তালিকা অনেকটা ছোট হয়ে এসেছে, সম্ভবত শীর্ষ ৫ জনে এসে দাড়িয়েছে। এখন শুধু অপেক্ষার পালা কার ভাগ্যের চাকা ঘুরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *